আম্রপালি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় উচ্চ ফলনশীল আমের জাত। গাছ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ বাগান স্থাপনে এটি অত্যন্ত উপযোগী। এর ফল আকর্ষণীয়, সুস্বাদু এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।
আম্রপালি ভারতের একটি জনপ্রিয় হাইব্রিড জাত যা বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সফলভাবে চাষ করা যায়। এটি দশেহরি এবং নীলম জাতের সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে।
ফল মাঝারি আকারের, রং লালচে-হলুদ এবং শাঁস গভীর কমলা রঙের। খেতে অত্যন্ত মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত।
উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত দোআঁশ মাটি আম্রপালি আম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মাটির pH ৫.৫ থেকে ৭.৫ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বর্ষা মৌসুমে অথবা বর্ষার শুরুতে চারা রোপণ করা উত্তম। সাধারণত ১০ ফুট × ১০ ফুট দূরত্বে আম্রপালি চারা লাগানো যায়।
প্রতি গর্ত ১ মিটার × ১ মিটার × ১ মিটার আকারে তৈরি করতে হবে। গর্তে গোবর, টিএসপি, এমওপি এবং জৈব সার মিশিয়ে ১৫-২০ দিন রেখে দিতে হবে।
গাছের বয়স অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। ফল ধারণের সময় পর্যাপ্ত আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নিয়মিত আগাছা অপসারণ করতে হবে।
আম্রপালি আমে সাধারণত অ্যানথ্রাকনোজ, পাউডারি মিলডিউ এবং ফল ছিদ্রকারী পোকা আক্রমণ করতে পারে।
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়।
সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সঠিক সেচ এবং প্রয়োজনীয় হরমোন ব্যবহারের মাধ্যমে ফুল ও ফল ঝরা কমানো যায়।
ফল সম্পূর্ণ পরিপক্ব হলে সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে আম সংগ্রহ করা হয়।
পরিচর্যার উপর নির্ভর করে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ৮০-১২০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব।
সঠিকভাবে গ্রেডিং ও প্যাকেজিং করলে বাজারে বেশি মূল্য পাওয়া যায়।
আম্রপালি আম বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি বাণিজ্যিক ফল। সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে কৃষকরা অধিক ফলন ও লাভ অর্জন করতে পারবেন।
Affiliate Disclosure: AGRIFRIENDBD is a participant in the Amazon Services LLC Associates Program. As an Amazon Associate, we earn from qualifying purchases.